1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১০.১২ পিএম
  • ৯৪ বার পঠিত

শাহজাহান বিশ্বাস: ২৭ অক্টোবর ২০২১
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ডুবে যাওয়া ফেরির ভিতর থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দিয়ে এ পর্যন্ত ৩টি ট্রাক ১টি মটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ৫টি কাভার্টভ্যান পাটুরিয়া ঘাটের অদুরে নদীর কিনারে পানিতে ভাসতে দেখা গেছে। দু’টি ট্রাক আগেই ফেরি থেকে নামতে সক্ষম হয়েছে। কাভার্টভ্যানসহ মোট ১৭টি গাড়ির মধ্যে ৭টি ট্রাক ডুবে যাওয়া ফেরিতে পানির মধ্যে নিন্মজিত রয়েছে। নৌবাহিনী, ফায়ারসার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে। বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি । কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন । এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরির দৃশ্য দেখার জন্য হাজার হাজার উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানোয়ারুল হককে আহবায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এদিকে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সুলতান আব্দুল হামিদকে আহবায়ক এবং বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক (কারিগরী) মো. রাশেদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটি’র অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (আইসিটি) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার এন্ড এক্সামিনার ক্যাপ্টেন সাইদ আহম্মেদ, বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুবায়ের ইবনে আওয়াল, মানিকগঞ্জ জেলার স্থানীয় বিভাগের উপ-পরিচালক এবং ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপারসহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

ফেরিতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাটুরিয়া ৫নং ফেরি ঘাটে আমনত শাহ নামের একটি ফেরি ঘাটে ভিড়ার পর তলা ফেটে পানি উঠে ফেরি কাত হয়ে অর্ধনিন্মজিত হয়ে ডুবে যায়। এসময় ওই ফেরিতে কাভার্টভ্যানসহ মোট ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক এবং ৮/১০টি মটর সাইকেল ছিল। এর মধ্যে দু’টি ট্রাক এবং ফেরিতে থাকা অনেক যাত্রীরা দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হয়। বাকী ১৫টি ট্রাক এবং মটর সাইকেলগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। যাত্রীবাহী বাস এবং ছোটগাড়ি ছিল কিনা তা তারা বলতে পারেনি কেউ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো বলেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক ও ১০টির মতো মোটরসাইকেল নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় আমানত শাহ নামের ফেরিটি। মাঝনদীতে আসার পর হঠাৎ করে ফেরির তলা ফেটে পানি উঠতে থাকে। এসময় ফেরির মাস্টার দ্রুত ফেরিটিকে পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ঘাটে চাপিয়ে দেন। পরে দুটি ট্রাক দ্রুত নামতে সক্ষম হলেও বাকি ট্রাক নিয়ে ফেরিটি মুহূর্তের মধ্যে ডান দিকে কাত হয়ে অর্ধনিন্মজিত অবস্থায় ডুবে যায়। ফেরিতে থাকা ট্রাকচালক ও যাত্রীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে যে যার মতো নেমে যান। তবে সবাই উঠতে সক্ষম হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে তা বলতে পারছেন না কেউ।
বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটলো। এর বেশি বলতে পারবো না।

এব্যাপারে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, ফেরি ডুবির ঘটনাটি খুবই দুঃক্ষজনক। তবে হতাহতের বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানোয়ারুল হককে আহবায়ক করে পুলিশের একজন, বিআইডব্লিউটিসি’র একজন এবং বিআইডব্লিউটিএর একজনকে সদস্য করে মোট চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠণ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এ তদন্ত টিম ফেরি ডুবির ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট দিবেন বলে তিনি জানান।
ঢাকা ডিভিশনের ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটসহ একটি ডুবুরি দল এবং নৌবাহিনীর ডুবোরি দল উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে আরেকটি ডুবুরি দল এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরির তলায় ভ্যালেন্সচারে অতিরিক্ত পানি ঢুকে ফেরিটি একদিকে হেলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়াম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নরুল আলম বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দিয়ে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত হামজা দিয়ে ডুবে যাওয়া ফেরি ভিতর থেকে তিনটি ট্রাক, একটি মটর সাইকেল এবং নদীতে ভেসে যাওয়া পাঁচটি কাভার্টভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আমাদের হামজার যে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে তা দিয়ে ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়। আমাদের হামজার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৬০টন। বর্তমানে ডুবে যাওয়ার ফেরিটি ওজন হবে প্রায় ১হাজার টনের উপরে হবে। এটি দিয়ে আমরা ডুবন্ত ফেরির মধ্যে থাকা ট্রাকগুলো তুলতে পারবো। সে কাজগুলোই করা হচ্ছে। আমাদের প্রত্যয় নামের আরেকটি উদ্ধারকারী জাহাজ আসছে। এটি আসলে দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ দিয়ে ফেরিটি উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।
শাহজাহান বিশ্বাস/গণচেতনা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com