1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

চাকরী গেলে খামু কি

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১০.৩০ পিএম
  • ৮৭ বার পঠিত

শাহজাহান বিশ্বাস : ৩১ জুলাই ২০২১
চাকরী গেলে খামু কি ? আমি জানি সারা দেশে কঠোর লকডাউন চলছে, আগামী ৫আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন। বাড়ি থেকে বের হওয়া মানেই সরকারী বিধি নিষেধ অমান্য করা। পথে-ঘাটে রয়েছে পুলিশের চেক পোষ্ট। সড়ক পথে গণপরিবহণ বন্ধ, নৌপথে ফেরি ছাড়া লঞ্চ, স্পিডবোটসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী। প্রশাসনের মোবইল কোর্টের ভয় এবং পুলিশের হয়রানিসহ নানা ধরনে ঝক্কি-ঝামেলা রয়েছে পথে-ঘাটে। এরপরও লকডাউন উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হয়েছি, শুধু চাকরি ঠিক রাখতে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে অফিসের বস-এ (ম্যানেজার) ফোন দিয়ে বলেন, ১লা আগস্ট যোগদান না করলে আপনার চাকরি থাকবে না। অন্যথায় অন্য লোক নিবো। তাই চাকরি বাচানোর তাগিদে লকডাউন অমান্য করে ঘর থেকে বের হয়েছি। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সকল বাঁধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে জীবনের ঝুকি নিয়ে রওয়ানা দিয়েছি নারায়ণগঞ্জ নিজের কর্মস্থলের দিকে। কথাগুলো বলছিলেন গার্মেন্টস কর্মী মো. মুক্তাদির হোসেন।

আজ শনিবার ( ৩১ জুলাই) মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা ফেরি ঘাটে কথা হয় মুক্তাদিরের সাথে। তিনি বলেন, তার বাড়ি পাবনাতে। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে চারজনের সংসার। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ থাকেন। বাড়িতে বাবা-মা ও ভাই-বোন রয়েছে। তাদের সাথে ঈদ করার জন্য বাড়িতে গিয়েছিলাম। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন চলমান থাকায় মালিক পক্ষ বলেছিল লকডাউনের পরে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য। মনে করেছিলাম লকডাউনের সুবাদে কিছু দিন ছুটি কাটাতে পারবো। কিন্তুু তা আর হলো না। এখন আর কি করা চাকরি চলে গেলে খামু কি ? তাই শনিবার ভোর বেলায় বউ-পোলাপান লইয়া বাড়ি থেকে বের হলাম। প্রথমে রিক্সা, এরপর ভ্যান, পিক-আপে এবং সিএনজিতে এভাবে রাস্তায় চার বার এসকল বিকল্প যান বদলাতে হয়েছে। কাজিরহাট থেকে ফেরিতে আরিচা ঘাটে এসে পৌছাই। পাবনা থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত আসতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় চার হাজার টাকা। এখন আরিচা থেকে নারায়ণগঞ্জ যেতে আরো কতো টাকা লাগবে আল্লাই জানেন।

তিনি আরো বলেন, ঈদে বাড়িতে গিয়ে এমনিতেই টাকা পয়সা সব শেষ। এরপর বাড়তি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। এ যেন মড়ার পর খড়ার ঘা। কর্মস্থলে যাবার জন্য না আছে গণপরিবহণ না আছে পকেটে টাকা। এই লকডাউনের মধ্যে একদিকে গণপরিবহণ বন্ধ অপরদিকে কর্তৃপক্ষ হঠকারী সিন্ধান্ত নিয়ে ১ লা আগস্টে গার্মেন্টস খুলার ঘোষনা দেওয়ায় আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

আমার মতো অনেকেই চাকুরি বাচানোর তাগিদে লকডাউন উপেক্ষা করে জীবনের ঝুকি নিয়ে ট্রাকে, সিএনজিতে ও পিক-আপ এবং ভ্যানে দলে দলে ছুটছে মানুষ ঢাকার দিকে।
১লা আগস্ট গার্মেন্টস খোলার নিন্ধান্ত নেওয়ার আগে গণপরিবহণ চালু করা দরকার ছিল। তাহলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারতো। আর এখন গাদাগাদি করে বসে যেভাবে যাচ্ছে এতে স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নাই এবং করোনা সংক্রমন আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। করোনা হলেও কিছু করার নাই। চাকরি ঠিক রাখতে কর্মস্থলে যেতেই হবে। আমরা গরিম মানুষ। চাকুর গেলে খামু কি ?
এভাবে একই দিন মুক্তাদিরের মতো আরিচা ঘাটে কথা হয়, সুমন আলী সরদার, মো. জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম, হাসেম মিয়া ও মাসুদা আক্তারের সাথে। তারা একই কথা বললেন, শুক্রবার রাতে অফিসের ম্যানেজার ফোন করে বলেন, ১লা আগস্ট চাকরিতে যোগদান না করলে চাকরি থাকবে না। ফলে পথে ঘাটে শত বাধা-বিঘ্ন থাকা সত্তেও চাকরি বাঁচাতে কর্মস্থলে যাচ্ছি।
শাহজাহান বিশ্বাস/গণচেতনা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com