1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

হঠাৎ করে গার্মেন্টস খুলার ঘোষণায় আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে হাজার হাজার মানুষের চরম ভোগান্তি

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ৭.২১ পিএম
  • ১০৩ বার পঠিত

শাহজাহান বিশ্বাস : ৩১ জুলাই ২০২১
সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ করে পোশাক কারখানাসহ শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার ভেলকি বাজির সিন্ধানের কারণে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে কর্মমুখী হাজার-হাজার মানুষের ভিড় পড়েছে। কর্মে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না বলে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন সাধারন কর্মজীবি মানুষ। কিন্তু গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় গন্তব্যে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব কর্মমুখী মানুষদের। পরিবহণ সংকট, বিকল্প পরিবহণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পথে- ঘাটে পুলিশের হয়রানিসহ নানা ধরনের ঝক্কি-ঝামেলার মধ্য দিয়ে চাকরি বাচানোর তাগিদে যাত্রীদেরকে কর্মে ফিরতে হচ্ছে। প্রায় সব বয়সী মানুষের চাপে আরিচা ও পাটুরিয়া দুই ঘাটে তিল ধারণের জায়গা ফাঁকা নেই। এসব যাত্রীরা ফেরিতে গাদা-গাদি করে বসে নদী পার হয়ে আরিচা ও পাটুরিয়া হতে ট্রাকে, সিএনজিতে, অটো রিক্সা, হ্যালোবাইক ও পিক-আপে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্চেন।

আজ শনিবার (৩১ জুলাই) ভোর হতেই কর্মমুখী মানুষের ঢল নামতে থাকে অরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ভীড়ও বাড়তে থাকে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঢাকামুখী মানুষের স্রোত এবং সেই সাথে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের দৃশ্য। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সারা দেশে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শিল্প কারখানাসহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা। কিন্তুু হঠাৎ করেই কি এক রহস্যজন কারণে ঘোষনা করা হয় ১লা আগস্ট হতে দেশের পোশাক কারখানসহ সকল শিল্প-কারাখান খোলা হবে। এতেই শুরু হয় যত ঝক্কি-ঝামেলা। গ্রামে অবস্থানরত মানুষ তাদের জীবিকার এক মাত্র অবলম্বন চাকুরি বাঁচাতে জীবনের ঝুকি নিয়ে ছুটতে থাকে কর্মস্থলের দিকে। শিল্প কারখানা খোলা হলেও গণপরিবহণ চালু করা হয়নি। যার কারণে সাধারণ ও খেটে খাওয়া অভাবি মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
একদিকে কারখানা খোলা অপরদিকে যাওয়ার জন্য কোন পরিবহণ নেই। এর চেয়ে চরম দুর্ভোগ আর তামাশা কি হতে পারে? এমন করেই বলছিলেন পাবনা হতে আরিচা আসা যাত্রী হাছান মাহমুদ। সরকারের এমন সিন্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাস্তায় চলাচলের জন্য কোন গণপরিবহণ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের যেন কোন সিমা নেই।

উত্তরাঞ্চলের পাবনা, বেড়া, নাকালিয়া, সাথিয়া, কাজিরহাট, ঈশ্বরদী, কাশিনাথপুর, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা, যশোর, ঝিনাইদহ, দৌলতপুর, রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ, কুমারখালিসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হতে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে এসে ভিড় করে আছেন। কোন পরিবহণ না পেয়ে বেশীর ভাগ মানুষ গরুর ট্রাকে জনপ্রতি ৫শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এছাড়াও সিএনজি, অটোরিক্সা, মটর সাইকেল, পিক-আপ ভ্যান, সাধারণ মালবাহী অটো ভ্যানসহ যে যেভাবে পারছেন ১০ থেকে ১৫ গুণ ভাড়া দিয়ে চাকুরি বাঁচাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। দুই ঘাটে অবস্থানরত শতাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের শারিরীক, মানসিক ও আর্থিক দুর্ভোগের কথা।
সাথিয়া হতে আগত রেহেনা বেগন বলেছেন, আমরা জানি আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত অফিস বন্ধ। কিন্তুু শুক্রবার হঠাৎ করে অফিস থেকে ফোন দিছে ১তারিখে অফিসে না গেলে চাকুরি থাকবে না কন কি করম? সাথিয়া থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত আসতে ৯শ’ টাকা লাগছে। এখন আরিচা থেকে সাভার যেতে ট্রাকে ৫শ’ আর সিএনজিতে ৮শ’ টাকা চায়। এমনিতেই জান বাচেনা তার পর ১শ’ টাকার ভাড়া ১হাজার টাকা। ‘আমাগো এখান মরণ ছাড়া গতি নাই’।

কুষ্টিয়া হতে আসা ছোহরাব হোসেন বলেন, ভাই কুষ্টিয়া হতে ৫/৬ বার রিক্সা, ভ্যান, অটো বদল করে দৌলতদিয়া হয়ে ফেরিতে পাটুরিয়া ঘাটে আসি। এতে আমার খরচ হয়েছে ১হাজার টাকা। এখন পাটুরিয়া থেকে পিক-আপে ঢাকার ভাড়া চায় ১হাজার টাকা। কন কেমনে বাচুম? এমনিতেই টাকা পয়সা সব শেষ। তার ওপর এই জালা। এটা মড়ার পর খড়ার ঘা ছাড়া আর কি ?
রাজবাড়ী হতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, অফিসে যাওয়ার কোন গাড়ি না ছেড়ে অফিস খুললো। আমরা অফিসে যামু কেমনে কেউ ভাবলো না। এহন আমাদের কত কষ্ট। আমাগো কথা কেউ ভাবে না-রে ভাই! তার কান্না জড়িত আবেগঘন কথায় তার সাথে থাকা রহিমা বেগম আনোরা বেগম, সোলেমান, রহম আলী, সোবহানসহ অনেকেই সায় দিলেন। তারা বললেন, গরিবের কথা কেউ ভাবে না-রে ভাই।
এদিকে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে নারী, শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তারা ক্লান্ত। তার উপর ঘাটের আশের পাশের কোথাও খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা আরো কাহিল হয়ে পড়েছেন। প্রকৃতির ডাকেও সারা দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নাই। একদিকে চলতি পথে সাধারণ ও অসহায় মানুষের সীমাহিন দুর্ভোগ। অপরদিকে এরকম অপরিকল্পিত ও হঠকারী সিন্ধান্তের কারণে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির ঝুকিও রয়েছে বলে বিশেজ্ঞরা মনে করছেন।

মানিকগঞ্জ কর্ণেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাক্ষ ডা. মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন,
যাত্রীরা যেভাবে গাদাগাদি করে বসে ফেরিতে পার হচ্ছে এবং পিক-আপ, সিএনজি ও অটো রিক্সায় যাতায়াত করছে এতে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির ঝুকি রয়েছে। করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচলের কোন বিকল্প নেই। তাই আমাদের সকলেরই মাক্স ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচল করা উচিত। কারণ জীবন অনেক মূল্যবান। আগে জীবন, পরে কর্ম। বেঁচে থাকলে অনেক কর্ম করা যাবে।

বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, যদিও লকডাউনের মধ্যে রোগীবাহী এ্যাম্বুল্যান্স এবং জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করার নির্দেশনা আমাদের রয়েছে। তারপরও ফেরিতে মানুষ উঠলে আমাদের করার কি আছে। অনেকেই চাকুরি বাচানোর তাদিগে জীবনের ঝুকি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছে। তাই মানবিক কারণে তাদেরকে পার করা হচ্ছে।
শাহজাহান বিশ্বাস/গণচেতনা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com