1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

হরিরামপুরে আ’লীগের দলীয় বিদ্রোহীরাও আসন্ন ইউপি নির্বাচনমুখী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ১১.৪৭ এএম
  • ২৮৯ বার পঠিত

জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) থেকে : ২৩ অক্টোবর ২০২১
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা হতে না হতেই মানিকগঞ্জ জেলার পদ্মা অধ্যুষিত হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নেই সরকারদলীয় প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীদের গণসংযোগ শুরু হয়েছে। তবে এ উপজেলার এখনও ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি। শুধুমাত্র মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর ও সদর উপজেলা তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণের দিনক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। এরই মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে সরকারদলীয় আ’ লীগের প্রার্থীরাই অনেকাংশে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের জন্যও তারা যোগাযোগ রাখছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে। প্রতিটি ইউনিয়নেই দেখা যাচ্ছে সরকারদলীয়দের একাধিক নতুন মুখ। আ’ লীগ থেকে শুরু করে যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলীয় বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রয়েছে প্রার্থীতার তালিকায়। বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই এখনও নিরব রয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকেই মাঠ গোছানোতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলাটিতে।

জানা যায়, সরকারদলীয় আ’ লীগের দলীয় হাই কমান্ড থেকে দলীয় প্রার্থীদের সিলেকশনের ব্যাপারেও জেলা উপজেলায় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে নির্দেশনায় এবার সবচেয়ে ধরাশায়ী হতে পারেন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

গত নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহীদের এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন তো দেয়া হবে না, এমনকি তাদের কাছে দলীয় ফরমও বিক্রি করা হবে না। শুধুমাত্র বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রেই নয়, যাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে, এমন নেতা কর্মীদেরকেও মনোনয়ন দেয়া হবে না, দলীয় হাইকমান্ডের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন উপজেলা আ’লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে আ’ লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা এবারও নির্বাচন মুখী। তবে অনেকে আবার সিদ্ধান্তে দোদুল্যমানও রয়েছেন। এ উপজেলায় গত নির্বাচনে বিদ্রোহীদের তালিকায় রয়েছেন, বাল্লা ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম হাজারী শামীম ও স্বপন ঘোষ, গালা ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান, হামিদুর শিকদার লেবু ও মাহফুজুর রহমান, চালা ইউনিয়নের সেলিম মোল্লা, বয়ড়া ইউনিয়নে পবিত্র কুমার শাখারী, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে সৈয়দ হোসেন ইমাম সোনামিয়া ও হারুকান্দি ইউনিয়নে আসাদুজ্জামান চুন্নু।

২০১৬ সালের ৩১শে মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনের ফলাফলের ওপর অনুসন্ধানে দেখা যায়, হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সরকারদলীয় আ’লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে কাঞ্চনপুর, রামকৃষ্ণপুর, আজিমনগর ও সুতালড়ী এই ৪টি ইউনিয়নে জয়লাভ করে। পক্ষান্তরে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাল্লা, গালা, গোপীনাথপুর, বলড়া ও বয়ড়া এই ৫টি ইউনিয়নে জয় লাভের মধ্য দিয়ে তাদের নিজেদের অবস্থানকে বেশ ভালভাবেই জানান দেয়। এছাড়াও চালা, ধুলশুড়া, হারুকান্দি ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। ফলে দেখা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে ক্ষমতাসীন আ’লীগ জয়ের পাল্লায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। সরকার দলীয় প্রার্থীদের এমন হতাশাজনক পরাজয়ের নেপথ্যের কারণ হিসেবে উপজেলা আ’ লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় নৌকা প্রতীকের এমন পরাজয় হয়। এছাড়াও দলীয় অর্ন্তকোন্দলসহ প্রার্থী বাছাইয়েও ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে অনেক নেতৃবৃন্দের মন্তব্যে উঠে আসে ।

গত ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সরকারদলীয় আ’লীগের প্রার্থীদের এক জরিপে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকায় উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরাই রয়েছেন। বাল্লা ইউনিয়নে একাধিক দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও প্রধান বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম হাজারী শামীম। তিনি বিএনপি’র প্রার্থী কাজী রেজার কাছে পরাজিত হয়ে ২য় স্থান লাভ করেন। আর দলীয় বিদ্রোহের রোষানলে পড়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে তৃতীয় হন মো. বাচ্চু মিয়া। গালা ইউনিয়নেও একাধিক দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মৃত জেপিএ সালাউদ্দিন বুলবুল। এখানে বিএনপি’র প্রার্থী শফিক বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২য় স্থান লাভ করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হাসান রাজিব । চালা ইউনিয়নেও একাধিক দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান চালা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম বিশ্বাস শিরুর কাছে। বয়ড়া ইউনিয়নে দলীয় প্রধান বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পবিত্র কুমার শাখারী। তাকে পরাজিত করে টানা তৃতীয়বারে মত ইউনিয়নটির মসনদে বসেন বিএনপি’র প্রার্থী জাহিদুর রহমান তুষার। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হাসান ইমাম বাবু হন তৃতীয়।

চরাঞ্চলে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজয়বরণ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। এখানে সাবেক উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সদস্য সৈয়দ হোসেন ইমাম সোনামিয়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয় লাভ করেন। হারুকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী আব্দুর রহিম বিশ্বাসকে সমর্থন না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আ’লীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান চুন্নু। ফলে দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে আব্দুর রহিম বিশ্বাস ২য় স্থান লাভ করেন। নির্বাচনের মাঠে দলের এমন পরিস্থিতি নিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে বয়ড়া ইউনিয়নের সরকারদলীয় নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হাসান ইমাম বাবু জানান, “দলীয় সিদ্ধান্তে আমাকে মনোনয়ন দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীরা দলের সাথে বিরোধিতা করে। তারা দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী পবিত্র কুমার শাখারীর নির্বাচন করেন। ফলে দলীয় এমন বিভাজনের কারণেই মূলত নৌকার পরাজয় ঘটে।

আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে বাল্লা ইউনিয়নের আ’ লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম হাজারী জানান, “এবারের নির্বাচনেও আমি অংশগ্রহণ করব এবং আমিই দলীয়ভাবে মনোনয়ন পাব।”

বয়ড়া ইউনিয়নের আ’ লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পবিত্র কুমার শাখারী জানান, “এ বছরও আমি দল থেকে মনোনয়ন চাইব। যদি দলীয় মনোনয়ন না পাই, তাহলে আর নির্বাচন করব না। দলের হয়ে কাজ করব।”

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের আ’ লীগের দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ হোসেন ইমাম সোনামিয়া জানান, “এ বছরও আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব। আমি একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। অবশ্যই আমি মনোনয়নের দাবীদার। আর যদি দলীয় মনোনয়ন না পাই তাহলে পরে চিন্তাভাবনা করব, নির্বাচনে যাব কি, যাব না। এই মূহুর্তে বলতে পারছি না।”

হারুকান্দি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আ’লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান চুন্নু জানান, “আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ইউনিয়নের সকল পেশার মানুষের সাথে আমার নিবিড় সখ্যতা রয়েছে। গত নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে যখন আমার কোনো মতামত নেয়া হয়নি, তখন আমি জনগণের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করি এবং বিজয় লাভ করি।” তিনি আরও জানান, “আমাকে বাদ দিয়ে দল থেকে আব্দুর রহিম বিশ্বাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়। মূলত যোগ্য এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিলে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করলে প্রতিটি ইউনিয়নেই আমাদের দলীয় প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত ছিল।” আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি জানান, জনগণ ও দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

গত নির্বাচনের একাধিক ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের এমন পরাজয় প্রসঙ্গে জেলা আ’লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বিপ্লব মুঠোফোনে জানান, “আমি প্রথমত বলব, দলীয় মনোনয়নগুলো দেয়া সঠিক ছিল না। কিছু কিছু মনোনয়ন যাদের পাওয়ার কথা ছিল তারা পায়নি। পরাজয়ের এটা একটা মুল কারণ ছিল। এছাড়াও দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য আ’ লীগের নেতাকর্মীদের যেভাবে সম্পৃক্ততা থাকার কথা ছিল, সেটাও দেখা যায়নি। মূলত এগুলোই দলীয় প্রার্থী পরাজয়ের মূল কারণ বলে আমি মনে করি।”

এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি গোলজার হোসেন বাচ্চু জানান, “গত নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী সিলেকশন ঠিকই ছিল। দলীয় বিদ্রোহীদের কারণেই অনেকগুলা ইউনিয়নে আমরা জয় পাইনি। তবে এ বছর আমরা সম্পূর্ণ কেন্দ্রের নির্দেশ মত কাজ করব। এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, গত নির্বাচনে যারা দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল এবারের নির্বাচনে তাদের মনোয়নের কোনো সুযোগ নেই। এতে করে তারা যত জনপ্রিয়ই হোক না কেন? এমনকি দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় ফরমই গ্রহণ করার সুযোগ নেই এবং তাদের নামও আমরা কেন্দ্রে পাঠাবো না। বিদ্রোহীরা এবার পুরোপুরি ধরাশায়ী। এটা বুঝতে পেরে বিদ্রোহীদের অনেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়ও আছে।”

এ ছাড়া দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনেও যে সকল নেতাকর্মীরা বিদ্রোহ করবে, তাদের ব্যাপারেও দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের কারণে আমরা পরাজিত হব, এটা আর হতে দেয়া হবে না। ক্লিন ইমেজ ব্যতীত কারও মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
আকাশ/গণচেতনা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com