1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের সুবিধা ভোগ করবে ১৫টি জেলার মানুষ -নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ১১.৩৩ পিএম
  • ১১৯ বার পঠিত

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ২৭ ফেব্রুয়ারী

নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটের সুবিধা ভোগ করবে প্রায় ১০/১৫টি জেলার মানুষ। ১৯৯৮ সালে এই নৌরুটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছিল। আমরা যারা উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলার মানুষ, আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র ব্যবস্থা ছিল এই ফুলছুরি ও নগরবাড়ি ঘাট। এই দুই ঘাট দিয়ে আমরা নৌপথে যাতায়াত করতাম। আমাদের অন্যকোন পথ ছিলনা। রাত ৮টায় আসতাম, হয়তো পরের দিন সকাল ৮টায় ফেরিতে উঠতে পারতাম না এত যানবাহন ছিল। এই ফেরির মধ্যে খাওয়া-দাওয়াসহ আমাদের অনেক স্মৃতি আছে। ফেরির মধ্যে অনেক কিছুর ঘটনার এখনও সাক্ষী হয়ে আছি। আমরা একটি আবেগঘণ মুহুর্তে এসেছি এই আরিচা এবং কাজিরহাট এই জায়গায়।
গত শনিবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে আরিচাতে ফলক উন্মোচন এবং ফিতা কাটার মাধ্যমে এই নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
এসময় আরিচা প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ,এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিএর, চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ তাজুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন, শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম রুহুল আমিন রিমন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একে,এম মিরাজ হোসেন লালন ফকিরসহ স্থানীয় নের্তৃবৃন্দ এবং বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এরপর নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধনী ফেরি বেগম রোকেয়ায় পাবনার কাজিরহাট পৌছান। সেখানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদিকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মেদ ফিরোজ কবীর, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ,এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান প্রমুখ।
উক্ত জনসভায় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা তিনি যোগযোগ ব্যবস্থায় অভুতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন ১০হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরী করা হবে বাংলাদেশে। নদী ড্রেজিং করে তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এতো সরকার গেছে এসেছে কেউ কোন ড্রেজার সংগ্রহ করে নাই। দেশরতœ শেখ হাসিনা দায়িত¦ গ্রহণের পরে প্রথমে ২টি তারপর ১০টি এরপর ২০টি এবং ৩৫টি প্রায় ৮০টির মতো ড্রেজার সংগ্রহ করে আমরা নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। হাজার হাজার কোটি টাকা তিনি এই নৌপথ এবং নৌযান তৈরী করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন। আজকে শুধু আরিচা-কাজিরহাট নয়, আমরা তালাশি থেকে জামালপুর একটি নৌপথ তৈরী করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।এছাড়া নাজিরগঞ্জের নৌরুটের ব্যপারে অবশ্যই সেটা স্টাডি করে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসির ১শ ১৬টি জাহাজ তিনি উদ্বোধন করবেন। শুধু তাই নয় আজকে এই নৌপথ তৈরী করার ক্ষেত্রে আমাদের যে দক্ষ জনশক্তি দরকার সেই জনশক্তি তৈরী করার জন্য বাংলাদেশে মাত্র ১টি মেরিন একাডেমি ছিল চট্রগ্রামে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চারটি মেরিন একাডেমি তৈরী করেছেন। নাবিক তৈরী করার জন্য বরিশাল, মাদারিপুর এবং নারায়নগঞ্জে ইন্সটিটিউট তৈরী করেছেন। আমরা আরো তিনটি ইন্সটিটিউট তৈরী করার জন্য কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এই নৌপথের একজন নাবিক বাংলাদেশের এ্যাম্বাসিডর হয়ে পৃথীবির বিভিন্ন বন্দরে বন্দরে গিয়ে তারা ঘুরবে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিকে তারা তুলে ধরবে, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধের কথা বলবে, ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্তদানের কথা বলবে, জতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথা বলবে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা বলবে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসিডর হয়ে।

তিনি আরো বলেন, পাবনার এই ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। আগামী দিনে এই পাবনা উত্তর বঙ্গের কর্ম চঞ্চল একটি জেলায় পরিণত হবে। কোন শ্রেণী বৈসম্য থাকবে না, সকলে সমান অধিকার নিয়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করবে সেই প্রচেষ্টা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় সেইভাবে কাজ করছে।
আপনারা জানেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে বাংলাদেশের এই নদীগুলোর দিকে কেউ তাকায় নাই। ধীরে ধীরে নদীগুলো দখল হয়ে যাচ্ছিল এবং এক পর্যায়ে নদীগুলো মৃত প্রায় হয়ে যাচ্ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে আমরা সেই নদীগুলো পুনরুদ্ধার করেছি। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করেছি। ক্ষমতাধর সরকারের থেকে আর কেউ হতে পারেনা। আমরা মনে করি এই নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যেখানে শত শত ড্রেজার সংগ্রহ করছেন শুধু নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা নৌপথগুলোকে সচল করতে চাই। আমরা চাই এই কাজিরহাট আজকে উদ্বোধন হয়েছে মুজিব শতবর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির একটি শুভক্ষনে। আমরা মনে করি আরিচা-কাজিরহাট এই নৌরুটটি আমাদের শুভ বার্তা নিয়ে আসবে সেই প্রত্যাশায় আমরা সকলেই আছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ট্রিপ হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠ মাতিউর রহমান, ১৫টি মাল বোঝাই ট্রাক নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় আরিচা থেকে কাজিরহাট পৌছায়।

শাহজাহান বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com