1. dailygonochetona@gmail.com : admi2017 :
  2. aminooranzan@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  3. aminooranzan24@gmail.com : Amin Anzan : Amin Anzan
  4. chanmiahsw@gmail.com : chan miah : chan miah
  5. sbnews74@gmail.com : sajahan biswas : sajahan biswas
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

লেখকের সীমাবদ্ধতা পাঠকের প্রত্যাশা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১, ৬.০০ পিএম
  • ৮২ বার পঠিত

লেখক-পাঠকসম্পর্ক অনেকটাই দেয়া-নেয়ার। ভাবেরআদানপ্রদানের। কখনোবা দাবীর। এ দাবী উভয়মুখী। লেখকরামনেকরেন লেখাটিপড়েপাঠকদেরএমনপ্রতিক্রিয়াহওয়াউচিত। আবারপাঠকরাভাবেনসমাজের এ বিষয়টিনিয়ে লেখকদেরএখনি লেখাউচিত। এতে চলমানসমস্যাটিরনিরসনহবে। আসলেকিতাই ? লেখকরাকিসমস্যা দূর করতেপারেন ?পাঠকদের অনেকেইভাবেন, হ্যাঁ লেখকরাঅবশ্যইতাপারেন। আর এমন বিশ্বাস হতেই কেউ কেউ সামাজিক বা ব্যক্তিক সমস্যা লেখকদের দৃষ্টিগোচর করে এর সমাধান কামনা করেন। যা অনেক সময় একজন লেখককে ভীষন যাতনার মধ্যে ফেলে দেয়। এমনি ঘটনা নিয়েইআজকের লেখা।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়মিত শারীরিক ও মোবাইল, ফেসবুকের মাধ্যমে মানসিক ভাবে যৌন হয়রানি করে আসছেন। এমনকি বাইরের প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের সাথেও তিনি একই কাজকরছেন। কাউকে এসব বললে তিনি ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করাবেন। এ চিন্তায় ও সামাজিক ভয়ে নির্যাতিত মেয়েরা কাউকেই তাদের কষ্টের কথা বলছে পারছেনা। এ নিয়ে পত্রিকায় লেখার জন্য তাঁরা আমাকে আকুল ভাবে অনুরোধ করেছে। আমি লিখলে নাকি ওরা যন্ত্রনা হতে মুক্তি পাবে।

কথা গুলো বারবার পড়ে মনটা বিষাদে ভরে যায়। শুধু মনে হয় এ-ও কী সম্ভব ? এ কেমন প্রতিষ্ঠান প্রধান? রক্ষক কি ভক্ষক হতে পারেন ? আবার এমন ও মনে হয়েছে এসব বানোয়াট নয়তো ?মনে এসেছে এমন ঘটনা দেশে প্রায়ইহচ্ছেও তো।ভুক্তভোগীদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। বারবার কল্পনায় ওদের অসহায় মুখ দেখেছি।ওদের আতংক দেখেছি।ওদের বিশ্বাসআমি দু লাইন লিখলেই ওদের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তিনি মানুষ হয়ে যাবেন। ওদের আর নিপীড়ন করবেন না। ওরা বেঁচে যাবে। মানে আইন-আদালতের ভয়ে তিনি চুপসে যাবেন- নিজে কে শুধরে নেবেন। আবার ভেবেছি তিনি নিজে ও ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারেন। স্বার্থে আঘাত লাগায় কোন গোষ্ঠী এসব করাতে পারেন। আবার তাঁর সাফল্যে ঈর্ষা পরায়ন হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান ও এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। যাই হোকনা কেন পত্র প্রেরকদের এটাই বলবো যে, এভাবে নিজেদের রক্ষা করা খুব সহজ হবে না। তিনি তোমাদের দুর্বল ভাববেন, বোকা ভাববেন। কাজেই তোমাদের তাঁর সামনা-সামনি দাঁড়াতে হবে।তোমাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি/স্থানীয় থানা/স্থানীয় আদালতে গিয়ে সমস্যার সমাধান চাইতে হবে। সে মানুষটিকে সবার সামনে হাজির করতে হবে তবেই না এসব মুখোশধারীরা জঙ্গলেপালাবে। তারপরেও তোমাদের সাধুবাদ জানাই তোমাদের গৃহিত পদক্ষেপের জন্য। কারণ, বাংলাদেশের সব মেয়েরা এ প্রতিবাদ টুকু করার যোগ্যতা রাখেনা। তোমাদের ও বুঝতে হবে লেখকরা কিন্তু আদালতের বিচারক নন। রায় দেয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই। লেখকদের কিছুবিধি-বিধান মেনে চলতে হয়। লেখকদের কাজ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। জনমত সৃষ্টি করা।অপরাধী হিসে বেচিহিৃত করে শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র আদালতেরই। কাজেই উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ তোমাদেরকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতেহবে।আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তোমরা জেনে খুশি হবে যে নারী ও শিশুনির্যাতন আইন ২০০০ সম্প্রতি মন্ত্রীসভা সংশোধন করেছে (১২ অক্টোবর ২০২০)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উদ্যোগেই এটি হয়েছে। যৌননিপীড়কদের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে বাড়িয়ে মৃত্যুদন্ড করা হয়েছে। এটি কার্যকরী হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। দানবদের হাত হতে রেহাই পেতেআইনের পাশাপাশি যৌননিপীড়ন বিরোধী সামাজিক আন্দোলন ও অব্যাহত রাখতে হবে। হায়েনাদের আরবাড়তে দেয়া যাবে না। ওগুলিকে থামাতেই হবে।

ভয় নেই। তোমরা কেন ভয়পাবে ? লোক-লজ্জার ভয় ?ভয় তো পাবে অন্যায়কারী। মাত্র একবার সাহস করে তোমরা রুখে দাড়াও। দেখবে পালানোর পথও পাবেনা তাঁরা। মনে রেখো, ফাইনাল পরীক্ষায় তোমাদের ফেল করানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধানেরই নেই। তোমাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হলে তোমাদেরইতার দায় নিতেহবে। এটিও ভেবে দেখো। কোন সম্মানি ব্যক্তির সম্মান হানির জন্য মানহানির মামলাসহ ফৌজদারি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কতিপয় ধারা তোমাদের মোকাবেলা করতে হবে। কোনভাবেই যেন তোমরা কারো দাবার গুটিতে পরিনত নাহও। সে দিকে খেয়াল রেখো। তোমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে,আইন আদালতের ক্ষেত্রে একমাত্র প্রমাণযোগ্য সত্যই সত্য। আর সব মিথ্যা। যদি সাহস করতে নাপারো তাহলে কৌশলে নিজেদের রক্ষা করে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনাকরে যাও। প্রাকৃতিক বিচারের উপর ভরসা রাখো। সে বিচারের হাত হতে কারোরই রেহাই নেই। অহেতুক নিজেকে ঝামেলায় ফেলোনা। জানিনা এখন তোমরা কেমন আছো। করোনাবিষয়ক ¯স্বাস্থ্যযবিধি মেনে চলো। ভালো থেকো তোমরা। নতুন বছরটি তোমাদের ভালোকাটুক। সবারসুন্দরকাটুক।

শ্যামল কুমার সরকার

প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভরাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন
মানিকগঞ্জ জেলাশাখা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazargonoche21

© All rights reserved  2020 Gonochetona.com